প্রথম অধ‍্যায়

৩) নিচের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ

প্রশ্নঃ সত্যজিৎ রায় বিখ্যাত কেন?

উত্তরঃ সত্যজিৎ রায় ছিলেন একাধারে চিত্রশিল্পি, সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র পরিচালক ও বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য অস্কার পুরস্কার প্রাপক। তাঁর বিখ্যাত চলচ্চিত্রের মধ্যে হল 'পথের পাঁচালি'।

প্রশ্নঃ নিম্নবর্গের ইতিহাসচর্চার সূচনা কবে হয়েছিল? নিম্নবর্গের ইতিহাস বিষয়ক একটি গ্রন্থের নাম লেখো।

উত্তরঃ ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে, অধ্যাপক রণজিৎ গুহ রচিত 'সিলেক্টেড সাবল্টার্ন স্টাডিজ' গ্রন্থে।

প্রশ্নঃ ভারতে রেলপথ ব্যবস্থার প্রবর্তন কীভাবে হয়?

উত্তরঃ মূলত অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্যে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে রেলপথ ব্যবস্থার প্রবর্তন করে। প্রথমে মহারাষ্ট্রের বোম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত ছিল এর ব্যাপ্তি। পরবর্তীকালে গ্যারান্টি প্রথার মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন স্থানে রেলপথের বিকাশ ঘটে।

প্রশ্নঃ নতুন সামাজিক ইতিহাস কী?

উত্তরঃ আধুনিক ইতিহাসচর্চায় রাজা–মহারাজা এবং অভিজাত সম্প্রদায় ছাড়াও সমাজের নিম্নবর্গীয় কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর এবং নারী সম্প্রদায়কে নিয়ে যে ইতিহাসচর্চা তাকে নতুন সামাজিক ইতিহাস বলে। 

প্রশ্নঃ দুটি পরিবেশ বিষয়ক আন্দোলনের নাম লেখো। 

উত্তরঃ নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন, চিপকো আন্দোলন। 

প্রশ্নঃ সামরিক ইতিহাস বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ প্রাচীনকাল থেকে সংঘর্ষের মাধ্যমে ইতিহাসের গতি বয়ে চলেছে। যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, যুদ্ধাস্ত্রের বিবর্তন, সামরিক বাহিনীর প্রকৃতি ও সমরকুশলতা, যুদ্ধের প্রকৃতি ও প্রভাবকে তুলে ধরা হল সামরিক ইতিহাস।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফিক ইতিহাসচর্চার বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তরঃ ফটোগ্রাফিতে বাস্তব দৃশ্য ধরা পড়ে, এতে ইতিহাসচর্চার কাল্পনিক দিক থাকে না। এছাড়া বাস্তব ঘটনা অপরিবর্তিতভাবেই আমাদের কাছে প্রকাশ পায়।

প্রশ্নঃ কবে, কাদের হারিয়ে মোহনবাগান আই এফ এ শিল্ড লাভ করে? 

উত্তরঃ ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে, ব্রিটিশদের ইয়র্ক ক্লাবের বিরুদ্ধে।

প্রশ্নঃ বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাস বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের বিকাশ ও বির্বতন, প্রযুক্তির উদ্ভব ও তার অগ্রগতি এবং চিকিৎসাবিদ্যার বিবর্তন সম্পর্কিত ইতিহাসচর্চা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাস নামে পরিচিত।

প্রশ্নঃ খাদ্যভাসের ইতিহাসচর্চার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তরঃ (১) খাদ্যাভাসের ইতিহাসচর্চা জাতীয়তাবোধের সৃষ্টি করে। (২) বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের খাদ্যাভাস সম্পর্কে জানতে পারা যায়। এটা জাতীয়তাবোধকে যেমন উদ্বুদ্ধ করে, ঠিক তেমনি জাতীয় আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করে। 

প্রশ্নঃ আধুনিক বাংলার দৃশ্যশিল্পের বিকাশে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান লেখো।

উত্তরঃ অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথমে ইউরোপীয় রীতিতে ছবি আঁকতেন, কিন্তু এই রীতি পরিবর্তে চিত্রশিল্পে দেশীয় ঐতিহ্য প্রবর্তন করে বেঙ্গল বা ওরিয়েন্টাল আর্টের ভিত্তি স্থাপন করেন।

 প্রশ্নঃ স্থানীয় বা আঞ্চলিক ইতিহাসের বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তরঃ এর থেকে ছোটো ছোটো ঘটনার বিবরণ জানা যায় যা জাতীয় ইতিহাস নির্মাণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

প্রশ্নঃ আত্মজীবনী কীভাবে ইতিহাসের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে?

উত্তরঃ আত্মজীবনী সমাজের নানান স্তরের মানুষের জীবনের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ থাকে, যেগুলি তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং এই ঘটনাগুলির মাধ্যমে সমকালের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ধরা থাকে।

প্রশ্নঃ অ্যানাল স্কুল কী?

উত্তরঃ মার্ক ব্লখ, লুসিয়ান ফেবরের তত্ত্বাবধানে 'অ্যানালম অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল হিস্ট্রি' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এর থেকেই যে গোষ্ঠী গড়ে ওঠে, তা অ্যানাল স্কুল নামে পরিচিত।

প্রশ্নঃ মহাফেজখানা কাকে বলে?

উত্তরঃ সরকারি নথিপত্র সংরক্ষণকেন্দ্র মহাফেজখানা বা লেখ্যাগার বা আর্কাইভস নামে পরিচিত। ভারতের স্বদেশি আন্দোলন, অসহযোগ, আইন অমান্য ও ভারতছাড়ো আন্দোলন সহ বিভিন্ন আন্দোলনের প্রাথমিক উপাদান মহাফেজখানায় রয়েছে।

প্রশ্নঃ স্মৃতিকথা কীভাবে উদ্বাস্তু সমস্যার ইতিহাস রচনার উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়? 

উত্তরঃ ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেশভাগের ইতিহাস, জাতিদাঙ্গা উদ্বাস্তু জীবন বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সাহিত্যিকের লেখায়, স্মৃতিকথায় সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে, যা উদ্বাস্তু সমস্যার ইতিহাস রচনায় গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্নঃ ইতিহাসের উপাদানরূপে সংবাদপত্রের গুরুত্ব কী?

উত্তরঃ যে যে কারণের জন্য সংবাদপত্রকে ইতিহাসের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয় তা হল -(১) সংবাদপত্র জনমত গঠনে সাহায্য করে। (২) ব্রিটিশ সরকারের জনবিরোধী নীতির সমালচনার বিভিন্ন দিক ফুটে ওঠে।

প্রশ্নঃ স্থানীয় ইতিহাসচর্চা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তরঃ প্রাচীন ইতিহাসচর্চায় দেশ, বিদেশ, মহাদেশ প্রভৃতি বিশাল অঞ্চল আলোচিত হয়েছে, যা কোনো ছোটো স্থানের পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করতে পারে না। তাই জাতীয় ইতিহাস রচনা করতে গেলে স্থানীয় ইতিহাসের ওপর নির্ভর করতে হয়।

প্রশ্নঃ জীবনের ঝরাপাতা কার রচনা? এই গ্রন্থ থেকে আমরা কী জানতে পারি? 

উত্তরঃ জীবনের ঝরাপাতা সরলাদেবী চৌধুরাণী রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। এর থেকে তৎকালীন ভারতীয় কৃষক, শ্রমিক শ্রেণির প্রতি ব্রিটিশ শাসকদের অন্যায়, অত্যাচার ও এর বিরুদ্ধে ছাত্র–যুবক শ্রেণির বিপ্লবী কর্মধারা সম্পর্কে জানা যায়।

প্রশ্নঃ যানবাহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাস বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত ও বার্তা বিনিময়ের জন্য জল, স্থল বা আকাশপথে ব্যবহৃত যানবাহন এবং ডাকব্যবস্থা, টেলি যোগাযোগ, ব্যবস্থা, ইন্টারনেট প্রভৃতি ক্ষেত্রের বিবর্তন সংক্রান্ত আলোচনাকেই বলা হয় যানবাহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাস।

প্রশ্নঃ রবীন্দ্রনাথের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ জীবনস্মৃতি থেকে কী জানা যায়? 

উত্তরঃ সমকালীন ভারতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের অংশগ্রহণ, স্বদেশি যুগের শিক্ষা ব্যবস্থা, হিন্দুমেলা সম্পর্কে বিশদ বিবরণ জানা যায়। 

প্রশ্নঃ বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনী সত্তর বৎসর থেকে কীভাবে স্বায়ত্তশাসনের ধারণা পাওয়া যায়?

উত্তরঃ বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনী সত্তর বৎসর থেকে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের কলকাতায় সামাজিক ও রাজনৈতিক মতাদর্শের উদ্ভবের ইতিহাস জানা যায়। বিপিনচন্দ্র তাঁর এই আত্মজীবনীর ছাত্রাবাস না জনরাজ্য অংশে দেখিয়েছেন কলকাতায় মেসগুলিতে তখন ছাত্ররা গণতান্ত্রিক ভিত্তিতে মেস ম্যানেজার নির্বাচন করে দায়বদ্ধতার সঙ্গে নিজেদের মেস-জীবন পরিচালনা করত। এভাবে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক ধারণা থেকেই ভারতে স্বায়ত্তশাসনের ধারণার ইতিহাসের উপাদান পাওয়া যায়।

প্রশ্নঃ নারী ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব কী? 

উত্তরঃ নারী ইতিহাসচর্চার দ্বারা সমাজে নারী সমাজের যথার্থ ভূমিকা ও অবদানকে মর্যাদা দেওয়া হয় ও ইতিহাসে নারীর ভূমিকা সম্পর্কে জানা যায়।

প্রশ্নঃ কাকে এবং কেন ভারতীয় ফুটবলের জনক বলা হয়?

উত্তরঃ নগেন্দ্রপ্রসাদকে ভারতীয় ফুটবলের জনক বলা হয়। তিনি কিশোর বয়সেই ফুটবলার রূপে এবং পরবর্তীকালে বয়েজ ক্লাব, ফ্রেন্ডস ক্লাব, ওয়েলিংটন ক্লাব প্রভৃতির সংগঠনরূপে বাংলার ফুটবল খেলার ক্ষেত্রে এক নবজাগরণ আনেন।

প্রশ্নঃ নিম্নবর্গের ইতিহাস বলতে কী বোঝায়?

অথবা, 

সাবল্টার্ন স্টাডিজ বলতে কী বোঝো? 

উত্তরঃ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি প্রভৃতি নির্বিশেষে নিম্নবর্গের মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, জনস্বাস্থ্য ইত্যাদি নিয়ে যে ইতিহাসৰ্চা তাই সাবল্টার্ন স্টাডিজ

প্রশ্নঃ হিন্দু প্যাট্রিয়ট বিখ্যাত কেন?

উত্তরঃ হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা ইংরেজ শাসন-শোষণের সমালোচনা ও বিরোধিতা করে এবং নীলচাষিদের পক্ষ সমর্থন করে জাতীয়তাবাদী পত্রিকার মর্যাদা লাভ করে।

প্রশ্নঃ বামাবোধিনী পত্রিকার উদ্দেশ্য কী ছিল? 

উত্তরঃ ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত এই পত্রিকার উদ্দেশ্য ছিল সমকালীন সমাজের অস্ত্র পুরস্থ মহিলাদের শিক্ষাদানের মাধ্যমে পুরুষ সমাজের শাসনের হাত থেকে মুক্তিদান করা। 

প্রশ্নঃ দেশপ্রেমের উন্মেষে নীলদর্পণ নাটকের কী ভূমিকা ছিল?

উত্তরঃ দীনবন্ধু মিত্র তাঁর নীলদর্পণ নাটকে অনিচ্ছুক নীলচাষিদের ওপর নীলকরদের বা ইংরেজদের অত্যাচারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিলেন। 

প্রশ্নঃ মেকলে মিনিট কী? 

অথবা,

মেকলে মিনিট বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ ইংরেজি তথা পাশ্চাত্য শিক্ষার সমর্থনে উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আইন সচিব মেকলে 1835 খ্রিস্টাব্দে যে প্রতিবেদন পেশ করেন, তা মেকলে মিনিট নামে খ্যাত।

প্রশ্নঃ জনশিক্ষা কমিটি কেন তৈরি হয়েছিল?

উত্তরঃ লর্ড হেস্টিংসের আমলে ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলা প্রদেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রসার ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যে জনশিক্ষা কমিটি বা জি সি পি আই হয়েছিল।

প্রশ্নঃ গ্রামবার্তাপ্রকাশিকায় সমাজের কোন দিকগুলি তুলে ধরা হয়েছে? 

উত্তরঃ সমকালীন সমাজের জমিদার, নীলকর, মহাজন, চাষি প্রভৃতি সম্প্রদায়ের উল্লেখ রয়েছে। কাঙাল হরিনাথ সম্পাদিত এই পত্রিকায় সুদখোর মহাজন, অত্যাচারী নীলকর এবং জমিদার শ্রেণির শোষণের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রশ্নঃ ভারতে নারীশিক্ষা বিস্তারে বিদ্যাসাগরের অবদান কী ছিল?

উত্তরঃ দক্ষিণবঙ্গের বিদ্যালয় পরিদর্শকের সরকারি পদে থাকার সুবাদে তিনি ৪০টি বালিকা বিদ্যালয় এবং ১০০টি বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।


প্রশ্নঃ উডের ডেসপ্যাচ কী?

অথবা,

পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ম্যাগনা কার্টা বলতে কী বোঝো? 

উত্তরঃ বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষা সংক্রান্ত যে নির্দেশনামা ঘোষণা করেন তা পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের 'ম্যাগনা কার্টা' বা উডের ডেসপ্যাচ নামে পরিচিত। 

উডের ডেসপ্যাচের সুপারিশগুলি হল -

(১) কলকাতা, বোম্বাই, মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা।

(২) পৃথক শিক্ষা দপ্তর ও শিক্ষক শিক্ষন বিদ্যালয় স্থাপন করা। 

(৩) সরকারি অনুদান দিয়ে বিদ্যালয়গুলিকে উন্নত করে তোলা

প্রশ্নঃ বাংলার নারীশিক্ষা বিস্তারে রাজা রাধাকান্ত দেবের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ রাজা রাধাকান্ত দেব নিজে সংস্কৃত পণ্ডিত হয়েও জাতির নৈতিক চরিত্র ও সামাজিক সুখ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নারীদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তারের উদ্দেশ্যে ক্যালকাটা ফিমেল জুভেনাইল সোসাইটি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছিলেন।

প্রশ্নঃ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দ্বন্দ্বের অবসান কীভাবে হয়েছিল? 

উত্তরঃ ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে প্রাচ্য–পাশ্চাত্য শিক্ষা নিয়ে যে দ্বন্দ্ব চলছিল, ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের নির্দেশে মেকলের ঘোষণার দ্বারা সেই প্রাচ্য–পাশ্চাত্য দ্বন্দ্বের অবসান হয়। 

প্রশ্নঃ শ্রীরামপুর ত্রয়ী কাদের বলা হয়? 

উত্তরঃ শ্রীরামপুরের খ্রিস্টান মিশনারি উইলিয়াম কেরি, উইলিয়াম ওয়ার্ড এবং মার্শম্যানকে একত্রে শ্রীরামপুর ত্রয়ী বলা হয়। 

প্রশ্নঃ ডঃ মধুসূদন গুপ্ত বিখ্যাত কেন?

উত্তরঃ মধুসূদন গুপ্ত ছিলেন কলকাতা সংস্কৃত কলেজের ছাত্র। তিনি ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১০ জানুয়ারি হিন্দু কুসংস্কার উপেক্ষা করে নিজ হাতে শব ব্যবচ্ছেদ করেন।

প্রশ্নঃ স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী? 

উত্তরঃ ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে ডেভিড হেয়ারের উদ্যোগে স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল – গরিব ও দুঃস্থ ছাত্রদেরবিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা।

প্রশ্নঃ কবে, কার নেতৃত্বে ব্রাহ্মসমাজ গড়ে ওঠে?

উত্তরঃ ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে রামমোহন রায়ের নেতৃত্বে গঠিত ব্রাহ্মসভা যা পরের বছর ব্রাহ্মসমাজে পরিবর্তিত হয়। 

প্রশ্নঃ নববিধান ব্রাহ্মসমাজ কী? 

উত্তরঃ ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে ভারতীয় ব্রাহ্ম সমাজ পরিবর্তিত হয়ে গড়ে ওঠে এই নববিধান ব্রাহ্মসমাজ। 

প্রশ্নঃ লালন ফকির কে ছিলেন? 

উত্তরঃ হিন্দু ও মুসলিম ধর্মশাস্ত্রের বিশ্লেষক তথা উনিশ শতকের বাংলার একজন বাউল সাধক ছিলেন লালন ফকির। 

প্রশ্নঃ ভারতীয় ব্রাহ্মসমাজ বিভক্ত হল কেন?

উত্তরঃ কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু প্রমুখ নবীন ব্রাহ্মনেতার সঙ্গে কেশবচন্দ্র সেনের মতের পার্থক্য দেখা যায়। যার ফল স্বরূপ ভারতীয় ব্রাহ্মসমাজ বিভক্ত হয়েছিল।

প্রশ্নঃ নব্যবঙ্গ আন্দোলন কী? 

উত্তরঃ হিন্দু কলেজের অধ্যক্ষ ডিরোজিও–এর নেতৃত্বে ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে ধর্মীয়, সামাজিক ও পাশ্চাত্য শিক্ষা সংক্রান্ত যে আন্দোলন হয়েছিল তা নব্যবঙ্গ আন্দোলন নামে পরিচিত। 

প্রশ্নঃ নব্য বেদান্ত কী?

উত্তরঃ বিবেকানন্দ বেদান্তের নতুন যে ব্যাখ্যা দেন তা নব্যবেদান্ত নামে পরিচিত। অদ্বৈতবাদে বিশ্বাসী বিবেকানন্দ বনের বেদান্তকে ঘরে আনার কথা প্রচার করেন এবং বেদান্তকে মানুষের কল্যাণে কাজে ব্যবহারের কথা বলেন।

প্রশ্নঃ নীলদর্পণ নাটক কার রচনা? কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে রচিত হয়? 

উত্তরঃ দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'নীলদর্পণ' মূলত নীলচাষিদের ওপর নীলকর সাহেবদের অকথ্য অত্যাচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছিল। 

প্রশ্নঃ বাংলার নবজাগরণ কী?

উত্তরঃ উনিশ শতকে বাংলায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য আদর্শবাদের ভিত্তিতে সমাজ ও সংস্কৃতিতে এক নবচেতনার উন্মেষ ঘটে, যা নবজাগরণ নামে পরিচিত।


                                               তৃতীয় অধ‍্যায়    

 সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:-

প্রশ্নঃ বিপ্লব বলতে কী বোঝো? \

উত্তরঃ বিপ্লব শব্দের অর্থ আমূল পরিবর্তন। মানুষ যখন আর্থ–সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্যস্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিরোধ করে তখন তাকে বিপ্লব বলে।

প্রশ্নঃ ঔপনিবেশিক অরণ্য আইনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তরঃ ঔপনিবেশিক অরণ্য আইনের উদ্দেশ্য ছিল -

(১) ১৮০৬ খ্রিঃ পর ভারতে ইংরেজি কোম্পানি নৌবাহিনীতে জাহাজ নির্মাণের জন্য ওক কাঠের প্রয়োজনীয় থেকে ভারতীয় বনজ সম্পদের দিকে কোম্পানির নজর পড়ে।

(২) অরন্যে বসবাসকারী অধিবাসকারী অধিবাসীরা যাতে যথেচ্ছভাবে বৃক্ষচ্ছেদন করতে না পারে সেদিকেও লক্ষ রাখা দরকার হয়ে পড়ে।

প্রশ্নঃ সাঁওতাল বিদ্রোহের দু’টি বৈশিষ্ট্য লেখো। 

উত্তরঃ (১) এই বিদ্রোহের একটি ঔপনিবেশিকতা বিরোধী চরিত্র ছিল। 

(২) সাঁওতাল ছাড়াও কর্মকার, চর্মকার, তেলি, ডোম, মুসলিম প্রভৃতি শ্রেণির মানুষ যোগ দেওয়ায় এই বিদ্রোহ গণবিদ্রোহে পরিণত হয়। 

প্রশ্নঃ চুয়াড় বিদ্রোহের গুরুত্ব কী?

উত্তরঃ চুয়াড় বিদ্রোহের গুরুত্বগুলি হলো -

(১) চুয়াড় বিদ্রোহের মাধ্যমে চুয়াড়রা জমিদারদের নিপীড়নের হাত থেকে মুক্তির চেয়ে ব্রিটিশ শাসনের অবসান বেশি জরুরি বলে মনে করেছিল।

(২) চুয়াড় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জমিদার, তার অনুচরবর্গ এবং কৃষকদের বিদ্রোহ হলেও এর প্রাণশক্তি ছিল নিপীড়ত কৃষক।

প্রশ্নঃ কোল বিদ্রোহের দু’টি গুরুত্ব লেখো। 

উত্তরঃ (১) কোল বিদ্রোহ হতে অন্যান্য উপজাতিদের বিদ্রোহী হতে উৎসাহিত করেছিল। 

(২) কোম্পানি বাধ্য হয়ে দক্ষিণ–পশ্চিম সীমান্তে এজেন্সি আইন গঠন করেছিল। 

প্রশ্নঃ মুন্ডা বিদ্রোহের দু’টি গুরুত্ব লেখো। 

উত্তরঃ (১) এই বিদ্রোহের পর উপজাতি এলাকায় ভূমি বন্দোবস্তের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। 

(২) এই বিদ্রোহ দ্বারা বেগার শ্রম প্রথা নিষিদ্ধ হয়। 

প্রশ্নঃ কবে, কোথায়, কার নেতৃত্বে নীলবিদ্রোহ শুরু হয়? 

উত্তরঃ 1859 খ্রিস্টাব্দে বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাসের নেতৃত্বে কৃয়নগরের চৌগাছা গ্রামে এই বিদ্রোহ শুরু হয়

প্রশ্নঃ খুঁৎকাঠি প্রথা কী?

উত্তরঃ খুঁৎকাঠি কথার অর্থ ছিল জমির যৌথ মালিকানা প্রথা অনুযায়ী মুন্ডারা দীর্ঘদিন ধরে গোষ্ঠীবদ্ধভাবে জমির যৌথ মালিনাকা ভোগ করত। কিন্তু ভারতে ব্রিটিশ শাসনের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে আদিবাসীদের পুরোনো ভূমি ব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং সেখানে জমি-জরিপ ও ব্যক্তিগত মালিকানার আবির্ভাব হয়।

প্রশ্নঃ কোল বিদ্রোহের দুটি কারণ কী? 

উত্তরঃ (১) তাদের নগদ করদানে বাধ্য করা হয়েছিল। 

(২) তাদের স্থায়ী বিচার পদ্ধতিতে আঘাত করা হয়েছিল। 

প্রশ্নঃ দামিন–ই-কোহ ও হুল শব্দের অর্থ কী? 

উত্তরঃ দামিন-ই-কোহ – এর অর্থ পাহাড়ের প্রাস্তদেশ এবং হুল শব্দের অর্থ বিদ্রোহ।

প্রশ্নঃ সন্ন্যাসী বিদ্রোহের কোন্‌ পরিস্থিতিতে শুরু হয়?

উত্তরঃ সন্ন্যাসী বিদ্রোহের যে যে পরিস্থিতিতে শুরু হয় তা নিচে আলোচনা করা হল -

(১) ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক অত্যাধিক রাজস্ব বৃদ্ধির ঘটনা কৃষিকাজ ও রেশম ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সন্ন্যাসী ও ফকিরদের ক্ষুদ্ধ তুলেছিল।

(২) ১৭৭৬ খ্রিঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময়ে সরকারের ঔদাসীন্যের ঘটনাও সন্ন্যাসী-ফকিরদের বিদ্রোহের দিকে ঠেলে দেয়।

প্রশ্নঃ ওয়াহাবি শব্দের অর্থ কী? ভারত ও বাংলায় কাদের নেতৃত্বে প্রথম ওয়াহাবি আন্দোলনের সূচনা হয়? 

উত্তরঃ নবজাগরণ। সৈয়দ আহমেদ এবং মহম্মদ মহসিন বা তিতুমির।

প্রশ্নঃ পাবনা বিদ্রোহ কেন হয়েছিল?

উত্তরঃ পাবনা বিদ্রোহের কারণগুলি গুলি হল -

(১) ১৮৫৯ খ্রিঃ প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী জমিদাররা তিনটি কারণ দেখিয়ে ভূমি রাজস্ব বৃদ্ধি করে এবং সরকারি রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি পাবনার কৃষকের কাছ থেকে বিভিন্ন রকমের অবৈধ খাজনা আদায় করা শুরু করে।

২) ১৮৭০ খ্রিঃ পর পাবনার কৃষকরা আইনসম্মত উপায়ে এই শোষণ ও অত্যাচারের প্রতিকার করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

প্রশ্নঃ ভারতে দ্বিতীয় অরণ্য আইন কবে পাশ হয়? উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তরঃ 1878 খ্রিস্টাব্দে। এর উদ্দেশ্য ছিল আদিবাসীদের কাছ থেকে অরণ্য কেড়ে নেওয়া।

প্রশ্নঃ তিতুমিরকে কেন মনে রাখা হয়?

উত্তরঃ তিতুমিরকে মনে রাখা হয় যে যে কারণগুলির জন্য তা হলো -

(১) বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলো তিতুমির।

(২) সে অত্যাচারী জমিদার, নীলকর ও ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে এক গ্রামীণ কৃষকদের প্রতিবাদী আন্দোলক।

প্রশ্নঃ 'আনন্দমঠ' উপন্যাস কীভাবে জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল?

উত্তরঃ 'আনন্দমঠ' – এ উল্লিখিত 'বন্দেমাতরম' মন্ত্র দেশবাসীকে মুক্তি আন্দোলনে উদ্‌বুৰ করেছিল। এখানে সত্যানন্দের মাধ্যমে আসুরিক ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের মধ্যে ধর্ম আন্দোলন জাগানোর ডাক দেওয়া হয়েছিল। এভাবেই এই উপন্যাস জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। 

প্রশ্নঃ বারাসাত বিদ্রোহ কী?

উত্তরঃ বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রাণপুরুষ তিতুমির ওরফে মির নিসার আলি বারাসাত মহকুমায় জমিদার, নীলকর ও ইংরেজ বিরোধী যে বিদ্রোহের সূচনা করেন তা বারাসাত বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

প্রশ্নঃ দুদু মিঞা স্মরণীয় কেন?

উত্তরঃ দুদু মিঞা যে যে কারণে স্মরণীয় তা হল -

(১) দুদু মিঞা ছিলেন বাংলার ফরাসি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। শরিয়ত উল্লাহর পুত্র এবং দক্ষ সংগঠক ও ফরাসি আন্দোলনের অন্যতম নেতা।

(২) তিনি বৈপ্লবিক ঘোষণা করেছিলেন - 'জমি আল্লাহর দান এবং সেখানে জমিদারের করধার্যের অধিকার নেই।

                                             

     চতুর্থ অধ‍্যায়                                                                      

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : 

প্রশ্নঃ নানা সাহেব কেন বিখ্যাত?

উত্তরঃ নানা সাহেব বিখ্যাত হওয়ার প্রধান কারণগুলি হল -

(১) তিনি ছিলেন মারাঠা পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও-এর দত্তক পুত্র ও পেশোয়াপদের উত্তরাধিকারী।

(২) যদিও নানাসাহেব সিপাহি বিদ্রোহের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁর রাজ্য উদ্ধার ব্যর্থ হন তথাপি তাঁর বীরগাথাকে স্মরণ করে সংগীত, নাটক, সিনেমাও তৈরি হয়েছে।

প্রশ্নঃ মঙ্গল পান্ডে স্মরণীয় কেন?

উত্তরঃ মঙ্গল পান্ডে যে যে কারণের জন্য স্মরণীয় তা হল -

(১) গোরু ও শুকরের চর্বি মিশ্রিত এনফিল্ড রাইফেলের টোটা ব্যবহারের বিরুদ্ধে মঙ্গল পান্ডে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।

(২) মঙ্গল পান্ডের নেতৃত্বে সিপাহি বিদ্রোহের খবর অন্যান্য সামরিক ছাউনিতে ছড়িয়ে পড়লে উত্তর ভারতের সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয়। 

প্রশ্নঃ ঐতিহাসিক অনিল শীল ঊনবিংশ শতককে "সভাসমিতির যুগ" বলেছেন কেন? 

উত্তরঃ ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো জাতীয়তাবাদের জন্ম। এই জাতীয়তাবাদের বিকাশের অনিবার্য ফল হিসেবে নানা সভাসমিতির জন্ম হয়। তাই ঐতিহাসিক অনিল শীল এইসময়কে সভাসমিতির যুগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রশ্নঃ মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার দুটি কারণ উল্লেখ করো।

উত্তরঃ মহাবিদ্রোহের ব্যর্থাতার দুটি উল্লেখযোগ্য কারণ হল -

(১) পরিকল্পনার অভাব সিপাহি বিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণগুলির মধ্যে প্রধান কারণ।

(২) সিপাহি বা জনগণের কাছে বিদ্রোহী নেতারা কোনো সুনিদির্ষ্ট লক্ষ্য তুলে ধরতে পারেনি। 

প্রশ্নঃ ভারতসভা বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন কাদের উদ্যোগে এবং কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ভারতসভা সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, আনন্দমোহন বসু, শিবনাথ শাস্ত্রী, দ্বারকানাথ গাঙ্গুলি প্রমুখের উদ্যোগে ১৮৭৬ খ্রিঃ গড়ে ওঠে। এর প্রথম অধিবেশন হয়েছিল কলকাতার অ্যালবার্ট হলে।

প্রশ্নঃ জমিদার সভা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তরঃ জমিদার সভা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যগুলি ছিল -

(১) বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার জমিদার স্বার্থ রক্ষা করা ও জমিদারদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।

(২) জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় এবং সরকার কর্তৃক নিষ্কর জমির বাজেয়াপ্তকরণ বিষয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা।

প্রশ্নঃ ইলবার্ট বিল বিতর্ক কী?

উত্তরঃ ভারতীয় কোনো বিচারকের ব্রিটিশদের শাসন করার অধিকার ছিল না। লর্ড রিপনের শাসনকালে আইনসচিব ইলবার্ট একটি বিল দ্বারা ভারতীয় বিচারকদের এই অধিকার প্রদান করেন। একে ইলবার্ট বিল বলে।

প্রশ্নঃ জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ জাতীয়তাবাদ হল একটি ভাবগত ধারণা। ভাষা, ধর্ম, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি যে-কোনো একটি বা একাধিক কারণে যখন একটি দেশের আপামর জনসমাজের মধ্যে গভীর একাত্মাবোধ জন্মায় এবং এই জনসমাজের প্রত্যেক অংশ যখন নিজেদের একে অপরের সুখ-দুঃখের অংশীদার বলে মনে করে, তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের সঙ্গে দেশপ্রেম মিলিত হয়ে একটি রাজনৈতিক আদর্শ গড়ে ওঠে। এই আদর্শই জাতীয়তাবাদ নামে পরিচিত।

প্রশ্নঃ ব্রিটিশ ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতি ও সম্পাদক কে ছিলেন? 

উত্তরঃ প্রথম সভাপতি–রাধাকান্ত দেব। প্রথম সম্পাদক–দ্বারকানাথ ঠাকুর।

প্রশ্নঃ গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর বিখ্যাত কেন?

উত্তরঃ গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর বিখ্যাত ছিলেন কারণ -

(১) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ঔপনিবেয়াশিক এবং ভারতের একজন বিখ্যাত চিত্রকর ও কার্টুনিস্ট।

(২) তিনি অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে যৌথভাবে ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ ওরিয়েন্টাল আর্ট নামক শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন।

প্রশ্নঃ আনন্দমঠ উপন্যাস কে, কোন পটভূমিকায় রচনা করেন? 

উত্তরঃ ১১৭৬ সনের (১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে) মন্বস্তরের পটভূমিকায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আনন্দমঠ রচনা করেন।

প্রশ্নঃ হিন্দুমেলা কেন জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারেনি। 

উত্তরঃ নবগোপাল মিত্র প্রতিষ্ঠিত 'হিন্দুমেলা' জনপ্রিয়তা না পেলেও উনিশ শতকের বিশেষ উল্লেখযোগ্য সংগঠন ছিল। এর সীমাবদ্ধতাগুলি নিম্নরূপঃ 

ধর্মীয় প্রাধান্যঃ নবগোপাল মিত্র হিন্দু ভারতের পুনর্জাগরণের স্বপ্ন দেখতেন। শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি নবগোপাল ও তার সংগঠনের ভাবধারাকে সমর্থন করতে পারেনি। 

রাজনৈতিক কর্মসূচির অভাবঃ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব না দিয়ে শুধু দেশাত্মবোধের প্রচার করায় হিন্দুমেলার উদ্যোগ বিশেষ সাফল্য পায়নি। 

সক্রিয়তার অভাবঃ ব্রিটিশ–বিরোধী যুগোপযোগী সক্রিয়তা ছিল না হিন্দুমেলার কর্মকাণ্ডে। সাধারণ মানুষকে তাই কাছে টানতে পারেনি হিন্দুমেলা।


                                                পঞ্চম অধ‍্যায়

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

প্রশ্নঃ কাকে, কেন বাংলার গুটেনবার্গ বলা হয়?

উত্তরঃ চার্লস উইলকিনসকে বাংলার গুটেনবার্গ বলা হয়, কারণ -

(১) তিনি ছিলেন একজন টাইপোগ্রাফার, প্রাচ্যবাদী ও এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং পঞ্চানন কর্মকারের সহযোগিতায় প্রথম সচল বাংলা মুদ্রাক্ষর নির্মাতা।

(২) তিনি ছিলেন বাংলা হরফ বিশেষজ্ঞ, তিনি নিজের উদ্যোগেই বেশ কিছু বাংলা হরফ ঢালাই করেছিলেন।

প্রশ্নঃ শিক্ষাবিস্তারে বিবেকানন্দের মতামত কী ছিল? 

উত্তরঃ বিবেকানন্দের মতে, ঔপনিবেশিকরা কখনোই সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের শিক্ষার ব্যবস্থা করবে না। তাই তিনি চেয়েছিলেন গণশিক্ষা।

প্রশ্নঃ শ্রীরামপুত্র ত্রয়ী বিখ্যাত কেন?

উত্তরঃ শ্রীরামপুর মিশনের উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান এবং উইলিয়াম ওয়ার্ড একত্রে শ্রীরামপুর ত্রয়ী নামে পরিচিত। এঁরা বিখ্যাত ছিল, কারণ -

(১) এঁদের উদ্যোগে বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটে।

(২) এঁরা ১৮০০ খ্রিঃ শ্রীরামপুর মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠা করলে বাংলায় মুদ্রণ শিল্পেরও বিকাশ ঘটে।

প্রশ্নঃ হিকির 'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা প্রকাশের দু’টি উদ্দেশ্য লেখো।      উত্তরঃ (১) ভারতে বসবাসকারী ইউরোপীয়দের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপন।

(২) বাংলায় ছাপাখানা শিল্পের প্রসার ঘটানো।

প্রশ্নঃ ছাপাখানা কীভাবে গণশিক্ষার প্রসারে সাহায্য করে?

উত্তরঃ ছাপাখানা যেভাবে গণশিক্ষার প্রসারে সাহায্য করে তা হল -

(১) কৃত্তীবাসী রামায়ণ, কাশীদাসী মহাভারত প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থ।

(২) সমাচারদর্পণ ও সংবাদ প্রভাকর-এর মতো বাংলাভাষায় প্রকাশিত পত্রপত্রিকা মানুষের মধ্যে জ্ঞানের ও শিক্ষার প্রসার ঘটায়।

প্রশ্নঃ কবে, কার উদ্যোগে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়? 

উত্তরঃ ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের ২৫শে জুলাই তারকনাথ পালিতের উদ্যোগে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয় । এই কারণে তিনি আজও স্মরণীয়।

প্রশ্নঃ বাংলার মুদ্রণের ইতিহাসে বটতলা প্রকাশনার গুরুত্ব কী?

উত্তরঃ উনিশ শতকে ছাপাখানা জগতে ১৮৪০-১৮৭০ খ্রিঃ পর্যন্ত সমকালে কলকাতার চোরবাগান, শোভাবাজার, দর্জিপাড়া, জোড়াসাঁকো প্রভৃতি স্থান জুড়ে যেসব প্রকাশনা চলত তা বটতলার প্রকাশনা নামে পরিচিত। নিচে এর গুরুত্বগুলি আলোচনা করা হল -

(১) সস্তায় বিচিত্র বিষয় ও বিচিত্র রকমের ধর্মকথা ও অশ্লীল কথাযুক্ত বাংলা বই ছাপা ছিল এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

(২) এই প্রকাশনার ক্ষেত্রে বিখ্যাত প্রকাশক ছিলেন বিশ্বম্ভর দেব ও ভবাণীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এঁদের প্রকাশিত পৌরাণিক ঐতিহাসিক গ্রন্থ সমকালীন বাবুসমাজ সহ শিক্ষিত মানুষের জ্ঞান পিপাসা মেটাতে সাহায্য করেছিল।

প্রশ্নঃ কী উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ শ্রীনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন? 

উত্তরঃ বাঙালি তথা ভারতীয়দের স্বনির্ভর করে তোলার কারণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রীনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

প্রশ্নঃ বোটানিক্যাল গার্ডেন কী?

উত্তরঃ শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন তৈরি করেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সামরিক বাহিনীর অফিসার কর্ণেল রবার্ট কিড। এটি তৈরির কারণগুলি হল -

(১) সেগুন কাঠ ও মশলার জন্য নতুন চারাগাছ রোপন করার জন্য শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন তৈরি করা হয়েছিল।

(২) ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ রোপন করে ভেষজ গার্ডেনে পরিণোত করেন।

প্রশ্নঃ জাতীয় শিক্ষা পরিষদ কবে, কেন প্রতিষ্ঠিত হয়? 

ভউত্তরঃ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে স্বদেশি ভাবনার প্রসার এবং ঔপনিবেশিক শিক্ষার বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রশ্নঃ উনিশ শতকে বিজ্ঞান শিক্ষার বিকাশে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্সের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তরঃ উনিশ শতকে ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স বিজ্ঞান শিক্ষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সেগুলি হল -

(১) এটিই ছিল ভারতের প্রথম বৈজ্ঞানিক সংগঠন এবং এই প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনভাবে বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণা করা হত।

(২) বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি বিজ্ঞান বিষয়ক আলোচনা সভার মাধ্যমে এই বিজ্ঞান সভা শ্রোতাদের বিজ্ঞান বিষয়ে আরো আকর্ষনীয় করত।

প্রশ্নঃ কার্লাইল সার্কুলার কী?

উত্তরঃ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন থেকে ছাত্রসমাজকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে আর. ডব্লু. কার্লাইল একটি দমনমূলক আইন জারি করেন যা কার্লাইল সার্কুলার নামে পরিচিত।

প্রশ্নঃ জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় ডন সোসাইটির ভূমিকা কী ছিল?

উত্তরঃ জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় ডন সোসাইটির ভূমিকা ছিল -

(১) ডন সোসাইটি ডন পত্রিকার মাধ্যমে ১৯০৪ খ্রিঃ লর্ড কার্জনের বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার সমালোচনা ও জাতীয় শিক্ষার দাবী করে।

(২) ১৯০৬ খ্রিঃ জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠনে এবং জাতীয় শিক্ষা পরিষদের অধীনস্থ বেঙ্গল ন্যাশনাল কলেজের শিক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রেও এই সোসাইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। 

প্রশ্নঃ ভারতে মুদ্রণযন্ত্রের প্রচলন প্রথম কারা করেছিল? 

উত্তরঃ পোর্তুগিজরা ভারতে প্রথম মুদ্রণযন্ত্রের প্রচলন করেছিল। দেশীয় হরফের দ্বারা পোর্তুগিজরা ভারতীয় মুদ্রণযন্ত্রের প্রথম আবিষ্কার (১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে) করে।

প্রশ্নঃ বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যগুলি হল নিম্নরূপ -

(১) মানুষের অভ্যন্তরের মানুষটিকে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতা গড়ে তুলে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটানো।

(২) শিক্ষার্থীদের অর্থশাস্ত্র, কৃষিতত্ত্ব প্রকৃতি বিষয়ে ব্যবহারিক বিদ্যাশিক্ষাদান ও বিশ্বভারতীয় চতুর্দিকে তার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা।

                                                                 ষষ্ঠ অধ‍্যায় 

 :

প্রশ্নঃ 'তিনকাঠিয়া প্রথা' কী?

উত্তরঃ বিহারের চম্পারণে নীলকর সাহেবরা চাষিদের বিঘা প্রতি জমিতে নীলচাষ ও নির্দিষ্ট দামে উৎপাদিত নীল নীলকর সাহেবদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য থাকত। এই ব্যবস্থাই তিনকাঠিয়া প্রথা নামে পরিচিত।

প্রশ্নঃ মোপলা বিদ্রোহ কেন হয়েছিল?

উত্তরঃ অসহযোগ আন্দোলনকালে মালাবার অঞ্চলের মোপলা নামক মুসলমান কৃষক সম্প্রদায় হিন্দু জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। স্বরাজের সপক্ষে নেতাদের প্রচারের ফলে মোপলাদের ধারণা হয় যে, দেশে স্বরাজ এসে গেছে। তারা নিজেদের অঞ্চলে হিন্দু জমিদারদের উচ্ছেদ করার পাশাপাশি প্রায় ৩০০ হিন্দুকে হত্যা করে এবং ২৫০০ জন হিন্দুকে ধর্মান্তরিত করেছিল বলে মোপলা বিদ্রোহ সাম্প্রদায়িক রূপ ধারণ করে।

প্রশ্নঃ একা আন্দোলন শুরু হয় কেন?

উত্তরঃ একা আন্দোলন সংগঠিত পিছনে কারণগুলি হল -

(১) ঠিকাদার নামের রাজস্ব সংগ্রহকারীরা অত্যাধিক হারে রাজস্ব ও নানারকম উপকর আদায় করত।

(২) কংগ্রেস ও খিলাফতি নেতাদের উদ্যোগও এই বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট রচনায় সাহায্য করে।

প্রশ্নঃ চৌরিচৌরা ঘটনাটির গুরুত্ব কী ছিল?

উত্তরঃ চৌরিচৌরা ঘটনার গুরুত্ব হল -

(১) চৌরিচৌরার এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী মহাত্মা গান্ধি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।

(২) চৌরিচৌরা ঘটনার পূর্বে মহাত্মা গান্ধির পরিচালিত আন্দোলনে জনগণের যোগদান ক্রমেই হ্রাস পায় ও আন্দোলনকে ধরে রাখা মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতে চৌরিচৌরা ঘটনা গান্ধির কাছে আশীর্বাদ রূপে দেখা দেয় এবং চৌরিচৌরা ঘটনার অজুহাতে গান্ধিজী অসহযোগ আন্দোলন থামিয়ে দেন।

প্রশ্নঃ বারদৌলি সত্যাগ্রহ আন্দোলন কেন শুরু হয়?

উত্তরঃ গুজরাটের সুরাট জেলার বারদৌলি অঞ্চলে সরকার ৩০ শতাংশ ভূমি রাজস্ব বৃদ্ধি করে। এর প্রতিবাদে এখানকার হিন্দু-মুসলমান কৃষকেরা প্রথমে স্থানীয় নেতৃত্ব ও পরে গান্ধিবাদী নেতা বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্ব ১৯২৮ খ্রিঃ খাজনা হ্রাসের দাবিতে যে সত্যগ্রহ আন্দোলন শুরু করে তা বারদৌলি সত্যাগ্রহ নামে পরিচিত। আন্দোলনের চাপে সরকার খাজনা হ্রাস করতে বাধ্য হয়েছিল।

প্রশ্নঃ তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার কী কী উদ্যোগ নিয়েছিল?

উত্তরঃ সতীশচন্দ্র সামন্তের নেতৃত্ব গঠিত তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার যে সমস্ত উদ্যোগ নিয়েছিল, সেগুলি হল -

(১) বিদ্যুৎবাহিনী নামক একটি সামরিক বাহিনী গঠন, যার অন্তর্গত ছিল গোরালি দল, ভগনী সেনা ও আইনশৃঙ্ঘলা কমিটি।

(২) পটাশপুর, কাঁথি প্রভৃতি স্থানে জেলা থানা গঠন এবং তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের সরকারি প্রশাসন স্থাপন।

প্রশ্নঃ ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস্‌ পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কারণ -

(১) বামপন্থী গোষ্ঠীরূপে জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যেই কাজ করা এবং ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টিকে আরও বেশি করে জনগণের পার্টিতে পরিণত করা।

(২) শ্রমিক ও কৃষকদের সংগঠিত করা।

প্রশ্নঃ তেভাগা আন্দোলন কী?

উত্তরঃ ভারতের স্বাধীনতালাভের প্রাক্কালে বঙ্গীয় কৃষক সভার উদ্যোগে এবং কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যে ভাগচাষি আন্দোলন শুরু হয় তা তেভাগা আন্দোলন নামে খ্যাত।

প্রশ্নঃ নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

উত্তরঃ নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যগুলি হল -

(১) সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের বিরোধিতা করা, অর্থাৎ রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা লাভ করা।

(২) জাতীয় রাজনীতিতে শ্রমিক শ্রেণির অংশগ্রহণ করে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামকে জোরদার করা।

প্রশ্নঃ ভারতের কমিনিস্ট পার্টিকে দ্বিজ বলা হয় কেন?

উত্তরঃ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিকে দ্বিজ বলা হয়, কারণ এই দল দুইবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল -

(১) ১৯২০ খ্রিঃ রাশিয়ার তাসখন্দে মানবেন্দ্রনাথ রায়ের নেতৃত্বে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

(২) ১৯২৫ খ্রিঃ সিঙ্গারাভেলু চেট্টিয়ার সভাপতিত্বে কানপুরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা হয়। তাই আক্ষরিক অর্থে কমিউনিস্ট পার্টিকে দ্বিজ বলা হয়।

প্রশ্নঃ মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা কী?

উত্তরঃ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কমিউনিস্ট তৎপরতায় শঙ্কিত হয়ে বামপন্থী শ্রমিক আন্দোলনকে দমন করার জন্য ব্রিটিশ সরকার জন নিরাপত্তা আইনে ১৯২৯ খ্রিঃ ২০ই মার্চ প্রথমে ৩১ জন কমিউনিস্ট শ্রমিক নেতা ও সংগঠককে গ্রেপ্তার করে এবং পরে এইচ এল হ্যাচিনসনকে গ্রেপ্তার করে। এভাবে মোট ৩২ জনের বিরুদ্ধে যে মামলা রুজু করা হয় - তা মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিতিচ। এই মামলা চার বছর ধরে চলেছিল।

প্রশ্নঃ ত্রিপুরি কংগ্রেসের গুরুত্ব কী ছিল?

উত্তরঃ ত্রিপুরি কংগ্রেসের গুরুত্ব হল -

(১) ত্রিপুরি কংগ্রেসে সুভাষচন্দ্র বসুর জয়লাভের ফলে কংগ্রেসের সভাপতি বামপন্থী ও দক্ষিণ পন্থীদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।

(২) কংগ্রেসের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য তৈরি হওয়াতে সুভাষচন্দ্র সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং ফরওয়ার্ড ব্লক নামে এক নতুন দল প্রতিষ্ঠা করেন।

                                                               সপ্তম অধ‍্যায়

 ৩) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও

প্রশ্নঃ বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে সরলাদেবী চৌধুরানির ভূমিকা কীরূপ ছিল?

উত্তরঃ বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে সরলাদেবী চৌধুরানির ভূমিকা ছিল -

(১) নিজে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভারতী পত্রিকায় বিভিন্ন প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে নারীশক্তিকে উজ্জীবিত করতে সচেষ্ট হন।

(২) বীরাষ্টমী ব্রত, প্রতাপাদিত্য ব্রত, উদয়াদিত্য ব্রত, প্রচলনের মাধ্যমে বাঙালি যুবকদের লাঠিখেলা, কুস্তি, তরবারি খেলা, শরীরচর্চায় উৎসাহ দান করেন।

প্রশ্নঃ সরোজিনী নাইডু বিখ্যাত কেন?

উত্তরঃ সরোজিনী নাইডু বিখ্যাত, কারণ -

(১) বিশ শতকে ভারতে জাতীয় আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী অগ্রণী নারী ছিলেন সরোজিনী নাইডু।

(২) জাতীয় চেতনায় উদ্‌বুদ্ধ হয়ে তিনি মুথুলক্ষ্মী রেড্ডির সঙ্গে ভারতীয় মহিলা সমিতি স্থাপন করেন।

প্রশ্নঃ গান্ধিজির ডান্ডি অভিযানের ফলাফল কী হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯৩০ খ্রিঃ ১২শে মার্চ গুজরাটের সবরমতী আশ্রম থেকে গান্ধিজির ডান্ডি অভিযানের সময় অসংখ্য মানুষ গান্ধিজির সহযাত্রী হন এবং গান্ধিজি ডান্ডির সমুদ্রতীরে লবণ তৈরি করে লবণ আইন ভঙ্গ করার পর সারা দেশে লবণ আইন ভঙ্গের ধুম পড়ে যায়। যেখানে লবন তৈরির প্রাকৃতিক সুযোগ ছিল না সেখানে ব্রিটিশ সরকারের অন্য আইন ভঙ্গ করা হয়। এভাবে ডান্ডি অভিযান হয়ে ওঠে ভারতীয় জনগণের ইংরেজদের আইন ও শাসনের বিরোধিতার প্রতীক।

প্রশ্নঃ  মাতঙ্গিনী হাজরা ইতিহাসে স্মরণীয় কেন?

উত্তরঃ ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তমলুক থানা ও কোর্ট চত্বর দখল অভিযানের ইদ্দেশ্যে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে চারটি মিছিল এসেছিল, সেই মিছিলের একটির নেতৃত্বে ছিলেন ৭৩ বছরের বৃদ্ধা মাতঙ্গিনী হাজরা। অভিযানের তিনি কোর্ট চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, পুলিশের গুলিতে জখম হন ও মারা যান।

প্রশ্নঃ দীপালি সংঘ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তরঃ নারী শিক্ষার প্রসারসাধন ও সমাজসেবামূলক কাজের প্রসারসাধন করা। বিপ্লবী আন্দোলনের জন্য নারীদের প্রস্তুত করা। নারীদের লাঠিখেলা, শরীরচর্চা ও অস্ত্র চালানো, অস্ত্রশস্ত্র জোগাড় ও বৈপ্লবিক কর্মকান্ড পরিচালনার শিক্ষা দেওয়া।

প্রশ্নঃ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার স্মরণীয় কেন?

উত্তরঃ দীপালি সংঘের অন্যতম সদস্যা ও বাংলার বিপ্লবী নারী ছিলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। তিনি চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের নায়ক মাস্টারদা সূর্য সেনের সহকারিণী ছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব একদল বিপ্লবী চট্টগ্রামের পাহাড়তলি ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করে সফল হলেও তিনি বিষ খেয়ে প্রাণোত্যাগ করে শহিদ হন।

প্রশ্নঃ বীণা দাস বিখ্যাত কেন?

উত্তরঃ বীনা দাস ছিলেন একজন বিপ্লবী এবং তাঁর দিদি কল্যানী দাসের প্রতিষ্ঠিত ছাত্রী সংঘের একজন সদস্যা। কলেজ ছাত্রী বীণা দাস কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সময় সেনেট হলে গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে হত্যার জন্যগুলি করেন কিন্তু জ্যাকসন অল্পের জন্য বেঁচে যান। জ্যাকসনকে হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে বীণা দাসের নয় বছর সশ্রম কারাদন্ড হলে বীণা দাস বিপ্লবীর মর্যাদা লাভ করেন।


প্রশ্নঃ ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই রেজিমেন্ট কী?

উত্তরঃ সুভাষচন্দ্র বসু কর্তৃক গঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজের নারীবাহিনীর নাম ছিল ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই ব্রিগেড। ১৯৪৩ খ্রিঃ প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনীতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রায় ১৫০০ নারী যোগ দেয়। যুদ্ধের কলাকৌশলে প্রশিক্ষিত এই বাহিনীর নেতৃত্ব দেন লক্ষ্মী স্বামীনাথন।


প্রশ্নঃ অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটি কেন স্থাপিত হয়?

উত্তরঃ বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনকালে কার্লাইল সার্কুলার, পেডলার সার্কুলার-এর বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজে ভীষণ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এরই সূত্র ধরে ১৯০৫ খ্রিঃ ৪ নভেম্বর সিটি কলেজের ছাত্র শতীন্দ্রপ্রসাদ বসু অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল - সরকারি আদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাহিষ্কৃত ও শাস্তিপ্রাপ্ত ছাত্রদের বিকল্প শিক্ষার ব্যবস্থা করা।

প্রশ্নঃ ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ছাত্ররা কীভাবে অংশগ্রহণ করেছিল?

উত্তরঃ ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ছাত্রদের অংশগ্রহণ পর্যাচোলনা করলে দেখা যায় যে -

(১) এই আন্দোলনে ছাত্রসমাজ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছিল, কারণ কংগ্রেসের অনুসন্ধান এক কমিটির রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, এই আন্দোলনে সারা দেশে সব বয়সের এবং সমস্ত শ্রেণির ছাত্ররা অংশগ্রহণ করেছিল।

(২) এক্ষেত্রে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, বাংলা, উড়িষ্যা, মহারাষ্ট্র, দক্ষিণ ভারতের ত্রিবাঙ্কুর ও কোচিনের বিভিন্ন অংশে ছাত্র আন্দোলনের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

(৩) ছাত্ররা এই আন্দোলনপর্বে খাজনা বন্ধ, রেললাইন উপড়ে ফেলা, এবং পোস্ট অফিস ও রেল স্টেশন ধ্বংস করার কাজে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল।


প্রশ্নঃ ভগৎ সিং বিখ্যাত কেন?

উত্তরঃ ভগৎ সিং ছিলেন বিংশ শতকের প্রথমার্ধের এক মহান বিপ্লবী এবং হিন্দুস্থান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা। স্যান্ডার্স হত্যা এবং কেন্দ্রীয় আইনসভা কক্ষে বোমা নিক্ষেপ প্রভৃতি জাতীয়তাবাদী ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত হন এবং বিচারে প্রাণদন্ডে দন্ডিত হন।


প্রশ্নঃ অলিন্দ যুদ্ধ বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ ১৯৩০ খ্রিঃ ৮ই ডিসেম্বর বিনয় বসু তাঁর দুই বিপ্লবী বন্ধু বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্তের সঙ্গে কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং-এ প্রবেশ করে কারা বিভাগের ইনস্পেকটর জেনারেলকে হত্যা করেন ও এক ইংরেজ কর্মচারীকে আহত করেন। এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ পুলিশ তিনজনকে ঘিরে ফেললে রাইটার্স বিল্ডিং-এর বারান্দা বা অলিন্দে অসম যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধ অলিন্দ যুদ্ধ নামে পরিচিত।

প্রশ্নঃ সূর্য সেন বিখ্যাত কেন?

উত্তরঃ বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি নামক বিপ্লবী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও বিখ্যাত ঘটনা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের নায়ক ছিলেন মাস্টারদা নামে পরিচিত সূর্য সেন। ১৯৩০ খ্রিঃ ১৮ই এপ্রিল চট্টাগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের পর বিপ্লবীরা চট্টাগ্রাম বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে সূর্য সেন ধরা পড়েন এবং বিচারে তাঁর ফাঁসি হয়।

প্রশ্নঃ রশিদ আলি দিবস কেন পালিত হয়?

উত্তরঃ ১৯৪৬ খ্রিঃ ১০ই ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ সরকার আজাদ হিন্দ ফৌজের এক সেনা অফিসার ক্যাপ্টেন আব্দুল রশিদের বিচারের ব্যবস্থা করে ও সাতবছর সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন কলকাতায় ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোপ ও ধর্মঘট সংঘটিত হয় এবং প্রকাশ্য সংঘর্ষে ৪৮ জন নিহত ও ৩০০-র বেশি ছাত্র আহত হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ১২ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়, যা রশিদ আলি দিবস নামে পরিচিত।

প্রশ্নঃ দলিত নামে কারা পরিচিত?

উত্তরঃ ভারতে বর্ণব্যবস্থাযুক্ত সমাজব্যবস্থায় উচ্চবর্ণের দ্বারা শোষিত ও অত্যাচারিত নিম্নবর্ণের হিন্দু বা অস্পৃশ্যরা ঔপনিবেশিক শাসনকালে দলিত নামে পরিচিতি লাভ করে। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার থেকে এরা বঞ্চিত ছিল অর্থাৎ মন্দিরে প্রবেশ, পুকুর বা জলাধার ব্যবহার, বিদ্যালয়ে লেখাপড়া, সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রে বঞ্চিত ছিল।

প্রশ্নঃ নমঃশূদ্র নামে কারা পরিচিত?

উত্তরঃ পূর্ব বাংলার খুলনা, যশোহর, ফরিদপুর ও বরিশালের প্রান্তিক কৃষিজীবী সম্প্রদায় নমঃশূদ্র নামে পরিচিত। সামাজিক দিক থেকে এঁরা ছিল হিন্দুসমাজে অস্পৃশ্য ও অন্ত্যজ। এরূপ সামাজিক বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতা তারা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা নমঃশূদ্র আন্দোলন নাম পরিচিত।

                                                         অষ্টম অধ‍্যায়

৩) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ

প্রশ্নঃ মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব কী?

উত্তরঃ ভারতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ছিল মাউন্টব্যটেন প্রস্তাব। 

(১) ভারতের মুসলিম প্রধান অঞ্চলগুলিকে নিয়ে এবং পাঞ্জাব ও বাংলা প্রদেশকে খন্ডিত করে পাকিস্থান নামক পৃথক রাষ্ট্র গঠন করা যেতে পারে।

(২) উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের বালুচিস্থান ও আসামের অন্তর্গত সিলেট জেলা পাকিস্থানের সঙ্গে যুক্ত হবে কিনা তার জন্য গণভোটে ব্যবস্থা করা।

প্রশ্নঃ দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তি দলিল বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ ভারতের দেশীয় রাজ্য দপ্তরের প্রধান সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল দেশীয় রাজগুলিকে ভারতভুক্তির জন্য কয়েকটি শর্তযুক্ত যে চুক্তিপত্র তৈরি করেন তা ভারতভুক্তির দলিল নামে পরিচিত। এই চুক্তিতে বলা হয় -

(১) এই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরকারী দেশীয় রাজারা নিজ রাজ্যকে ভারতের অন্তর্যুক্ত করতে বাধ্য হত এবং ভারত সরকারের কাছ থেকে ভাতা, খেতাব ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা লাভ করত।

(২) কয়েকটি দেশীয় রাজ্য ব্যতীত অধিকাংশ দেশীয় রাজ্যের রাজারা এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।

প্রশ্নঃ কী পরিস্থিতিতে কাশ্মীরের রাজা হরি সিং ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন?

উত্তরঃ কাশ্মীর রাজ্যের ভারতভুক্তির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে হয় -

(১) স্বাধীন রাজ্যস্বরূপ উপস্থিতি কাশ্মীর রাজ্যের ঐতিহ্য হওয়ায় কাশ্মীরের রাজা হরি সিং ভারত অথবা পাকিস্থানে যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন।

(২) কিন্তু শেষপর্যন্ত ভারত সরকার শর্তসাপেক্ষ হরি সিং-কে সামরিক সাহায্য করলে হরি সিং ভারতের সঙ্গে যোগ দেন।

প্রশ্নঃ হায়দরাবাদ কীভাবে ভারতভুক্ত হয়?

উত্তরঃ যখন নিজাম ওসমান আলি খান ভারতে যোদদান না করার এবং ভারতের সমস্ত রকম নির্দেশ অমান্য করে আর ভারতের জন্য একটা সুরক্ষার বিপদ তৈরি করে তখন -

(১) ভারতের সামরিক বাহিনীর জেনারেল জয়ন্তনাথ চৌধুরীর নেতৃত্বে ভারতীয় বাহিনী সমগ্র হায়দরাবাদ দখল করে।

(২) পরের বছর নিজাম একটি চুক্তির মাধ্যমে ভারতভুক্তির দলিল স্বাক্ষর করেন এবং ১৯৫০ খ্রিঃ ২৬শে জানুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে হায়দরাবাদ ভারতভুক্ত করে।

প্রশ্নঃ র‍্যাডক্লিফ বিখ্যাত কেন?

উত্তরঃ বড়োলাট লর্ড মাউন্টব্যাটেন কর্তৃক ভারত-বিভাজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে বঙ্গ ও পাঞ্জাবের সীমানা বিভাজনের উদ্দেশ্যে গঠিত হয় দুই সীমানা কমিশন। স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ ছিলো এই দুই সীমানা কমিশনের সভাপতি।

প্রশ্নঃ র‍্যাডক্লিফ বিখ্যাত কেন?

উত্তরঃ বড়োলাট লর্ড মাউন্টব্যাটেন কর্তৃক ভারত-বিভাজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে বঙ্গ ও পাঞ্জাবের সীমানা বিভাজনের উদ্দেশ্যে গঠিত হয় দুই সীমানা কমিশন। স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ ছিলো এই দুই সীমানা কমিশনের সভাপতি।

প্রশ্নঃ উদ্‌বাস্তু বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ দেশভাগ কথাটির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত কথাটি হল উদুবাস্তু। দেশভাগের ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণ বা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বা অন্য কোনো কারণে যখন নাগরিকরা মাতৃভূমি পরিত্যাগ করে অন্য দেশে আশ্রয় নেয় তখন তারা উদ্‌বাস্তু নামে পরিচিত। ছিন্নমূল এই মানুষগুলি অধিকাংশ ঔক্ষেত্রেই জাতিবিদ্বেষের শিকার হয় বা বিভিন্নভাবে অত্যাচারিত হয়।

প্রশ্নঃ ১৯৫০ খ্রিঃ কেন নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল?

উত্তরঃ (১) ১৯৪৯ খ্রিঃ জুন মাসের মধ্যেই পূর্ববঙ্গে হিন্দু শরণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উদবাস্তু সমস্যার সমাধান বা ত্রাণ ও পুনর্বাসনে পশ্চিমবঙ্গে সংকটজনক পরিস্থিতি দেখা দেয়।

(২) ১৯৫০ খ্রিঃ শুরুতেই পাকিস্থান ক্রমশই ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে শুরু করলে পূর্ববঙ্গ থেকে প্রায় প্রত্যেক হিন্দুই পূর্ববঙ্গ ত্যাগ করে ভারতে চলে আসতে চলে যায়।

প্রশ্নঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে উদবাস্তুদের বন্ধু বলা হয় কেন?

উত্তরঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রী এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি উদবাস্তুদের বন্ধু নামে পরিচিত। কারণ -

(১) উদবাস্তু সমস্যার সমাধানের জন্য কলকাতায় ভারত-পাকিস্থান কনফারেন্সে প্রতিনিধিরূপে যোগ দেন।

(২) ১৯৫০ খ্রিঃ এপ্রিলে নেহরু-লিয়াকৎ-চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও শ্যামাপ্রসাদ এই চুক্তিতে উদবাস্তুদের স্বার্থযুক্ত রক্ষা কবচের জন্য কোনো কার্যকারী ব্যবস্থা না থাকায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

প্রশ্নঃ স্মৃতিকথা কীভাবে উদবাস্তু সমস্যার ইতিহাস রচনার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যায়?

উত্তরঃ স্মৃতিকথা থেকে -

(১) দেশভাগের প্রেক্ষাপট জানা যায়

(২) দেশভাগের জন্য মহম্মস আলি জিন্না-সহ মুসলিম লিগ ও কংগ্রেসের দায়িত্ব কতটা তা জানা যায়

(৩) দেশভাগে সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়া

৪) উদবাস্তু সমস্যার উদ্ভব

প্রশ্নঃ রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কেন গঠিত হয়েছিল?

উত্তরঃ (১) রাজ্য পুনর্গঠন করা কি না বা হলেও এর ভিত্তি কী হবে, কত সংখ্যক রাজ্য পুনর্গঠিত হবে বা রাজ্য পুনর্গঠনের সুফল-কুফল আলোচনা করে সুপারিশ করা ছিল এর প্রধান কাজ।

(২) এই কমিশন অনেক আলাপ-আলোচনার পর রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন এবং ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের সুপারিশ করে।

প্রশ্নঃ পট্টি শ্রীরামালু কে ছিলেন?

উত্তরঃ বিiখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী তেলেগু ভাষীদের জন্য পৃঙ্ক অন্ধ্রপ্রদেশের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন। ৫৮ দিন অনশনের পর তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁর মৃত্যুর পর অন্ধ্রপ্রদেশে তিনদিন ধরে পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশের দাবিতে দাঙ্গা, বিক্ষোভ প্রদর্শন, হরতাল পালিত হয়।

প্রশ্নঃ ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনে কংগ্রেসের দৃষ্টিভঙ্গি কী ছিল?

উত্তরঃ স্বাধীনতার পূর্বে কংগ্রেস প্রচার করেছিল যে, স্বাধীনতার পরবর্তীকালে প্রতিটি প্রধান ভাষাগোষ্ঠীর জন্য পৃথক রাজ্য গঠন করে দেবে। কিন্তু ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর ভারতের জাতীয় সংহতি ও প্রশাসনিক কারণে কংগ্রেস ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের বিরোধিতা করে।

                                                                                                       ইতি

                                                                                                  নুরইসলাম  সেখ